“ম্যারাডোনা- খেলোয়াড়ি জীবনের পর যা কিছু”

“ম্যারাডোনা- খেলোয়াড়ি জীবনের পর যা কিছু”

From ‘Hand of god’ to ‘Fingers of shame’ – ল্যাটিন আমেরিকার একটি দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম ঠিক এমনই ছিলো। ঘটনার প্রেক্ষাপট রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮ এর গ্রুপ পর্বের নাইজেরিয়া বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ। যেই ম্যাচে ভিআইপি স্ট্যান্ডে অন ক্যামেরায় ফুটবলের বরপুত্র ম্যারাডোনার মধ্যাংগুলি প্রদর্শন। স্বাভাবিকতই ব্যাপারটা সহজভাবে নেয়নি ফুটবল বিশ্ব।

ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা আর বিতর্কিত শিরোনাম এই দুটো যেনো একে অপরের পরিপূরক। খেলার মাঠে আর্জেন্টিনাকে সর্বশেষ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া জাদুকর ম্যারাডোনাকে অনেক ফুটবল অনুরাগীরাই ইশ্বর বলে মানেন। তাই ২২ জুন ১৯৮৬ তে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৫১ মিনিটে হাতের কারসাজিতে করা গোলটিকে তাই ভক্তরা নাম দিয়েছে ‘হ্যান্ড অফ গড গোল’ বা ইশ্বরের হাতের গোল। যদিও ইংরেজরা মোটেও সেভাবে নেয়নি ব্যাপারটা। অনেক জল ঘোলা হলেও দিন শেষে মাঠের রেফারির হুইসেলেই সব ফয়সালা হয়। তাই পার পেয়ে যান ম্যারাডোনাও। এরপরে ডোপ কেলেংকারীতে  ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারেই সূর্যাস্ত নেমে আসে। তারপর আরো নানান বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বেপরোয়া জীবনযাপন, মদ আর ফুটবল এসব তার জীবনে জড়িয়ে পড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে।

খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নেয়ার পরও স্থবির হতে পারেননি তিনি। রিহ্যাবে দেখা দিয়েছেন অনেকবার। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ২০০০ এবং ২০০৪ সাল। যখন তিনি গুরুতর ভাবে হৃৎপিন্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০০৫ সালে শল্যচিকিৎসকের ছুরির নিচে যান গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারীর জন্য। এরপর থেকে ড্রাগ ছেড়ে দিলেও ২০০৭ সালে আবার তার শরীর ভেংগে পড়ে। এবার অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান এবং খাদ্যে অনিয়ম ছিলো মূল কারণ।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফিদেল কাস্ত্রো এবং হুগো শাভেজের সাপোর্টার ছিলেন। একটি টিভি শোতে তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে আসা সকল প্রোডাক্ট তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন।

২০০৫ সালে কিছু মাসের জন্য ম্যারাডোনা নিজের একটি টক শোও হোস্ট করেন। যার নাম ছিলো ‘The night of 10’। এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো, মাইক টাইসন, পেলের মতো ব্যক্তিত্বরা! ১৩ পর্বের এই শোটি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো।

durbin-academy-blog-meradona

তুমুল জনপ্রিয়তার জের ধরেই অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ পেয়েছিলেন তার প্রিয় দল আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ২০১০ বিশ্বকাপে পা রাখার। কিন্তু একজন ভালো ছাত্র একজন ভালো শিক্ষক হবেন সবসময় যে এমনটা হয় না তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। বাছাইপর্ব পার হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কাপটা আর ছোঁয়া হয়নি। এরই মধ্যে অবশ্য নতুন রকমের আরেক বিতর্ক জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে রাস্তায় এক সাংবাদিকের উপর গাড়ি চালিয়ে দেন। গাড়ি থামিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার বদলে যেতে যেতে সাংবাদিককে গালি দিয়ে বলেন সাংবাদিক কেনো তার গাড়ির নিচে পা ঢুকিয়ে দিলো!

সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর যখন অনেকেই তার পদত্যাগ দাবি করছিলো তখন আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন প্রধান হুলিও গ্রন্দোনা বলেন, ” এটা নির্ভর করে ম্যারাডোনার উপর। গোটা আর্জেন্টিনায় সেই একমাত্র ব্যক্তি যে যা চাইবে তাই করতে পারবে।” আর্জেন্টিনায় তার সম্মান আর ভালোবাসাটা এমনই ছিলো।

তিনি অবশ্য আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচের চাকরিটা ছেড়ে দেন। বর্তমানে বেলারুশিয়ান ক্লাব ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিতর্কের মতো ফুটবলটাও যে তার জীবনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। তাইতো বারবার ফুটবলের আংগিনাতেই তার দেখা মিলে।

durbin-academy-blog-meradona

 

 

-মাহমুদ কবির ইরফাত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

durbin-academy-blog- mostishker dokkhota baranor upay
durbin-aca